অসমে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের নিয়মে বড়সড় পরিবর্তন আনল হিমন্ত সরকার। এখন থেকে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে জমি কেনাবেচা আর আগের মতো সহজ হবে না। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে জমি কেনাবেচার জন্যে SOP চালু করলো আসাম সরকার। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে জমি হস্তান্তর করতে হলে একাধিক প্রশাসনিক স্তর পার হতে হবে। ক্যাবিনেটের বৈঠক শেষে সংবাদ মাধ্যমকে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশৰ্মা।

ভিন্ন ধর্মীদের মধ্যে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের প্রস্তাব জমা পড়বে প্রথমে জেলা আয়ুক্তের কার্যালয়ে। প্রাথমিক যাচাইয়ের পর সেই নথি পাঠানো হবে রাজস্ব দফতরে। রাজস্ব দফতরে নিযুক্ত নোডাল অফিসার সমস্ত তথ্য পরীক্ষা করবেন। এরপর ফাইল যাবে পুলিশের বিশেষ শাখায়, যেখানে শুরু হবে মূল তদন্ত। বিশেষ শাখা যাচাই করবে- লেনদেন বেআইনি, জবরদস্তি বা প্রতারণার মাধ্যমে হচ্ছে কি-না। ক্রেতার অর্থের উৎস বৈধ কি-না এবং জমি কেনাবেচার ফলে স্থানীয় সমাজে কোনো অস্থিরতা তৈরি হবে কি-না। জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তের পর প্রতিবেদন ফের জেলাশাসকের কাছে পাঠানো হবে এবং শেষপর্যন্ত অনুমোদন বা বাতিল করার সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন। এই নতুন বিধান কেবল ব্যক্তি পর্যায়ের জমি লেনদেনের জন্যই নয়, বাইরের রাজ্য থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও NGO-গুলির ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে। হিমন্তবিশ্ব শর্মা অভিযোগ করেছেন, কেরালা থেকে আসা কিছু NGO বরাক উপত্যকায়ও জমি কিনতে চাইছে, বরপেটাতেও ইতিমধ্যেই বিপুল জমি ক্রয় হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, অসমে নিবন্ধিত NGO-গুলির ক্ষেত্রে এই নতুন বিধি প্রযোজ্য হবে না। সরকারি মহলের মতে, নতুন এই SOP চালু করার উদ্দেশ্য হল জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সমাজে অশান্তি বা নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দূর করা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখেছি, অনেক সময় জমি লেনদেনের আড়ালে অসৎ উদ্দেশ্য কাজ করে। এর ফলে স্থানীয় সমাজে বিরূপ প্রভাব পড়ে এবং জাতীয় নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হতে পারে। তাই এখন থেকে কোনো জমি হস্তান্তরের আগে সমস্ত দিক থেকে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হবে।
