স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্কের জেরে জীবনাবসান কাছাড়ের উঠতি রাজনীতিক, ধলাইর খুলিছড়া জিপির নব নির্বাচিত সভাপতি ইমরানের। চাপা জনঅসন্তোষের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দফায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর ঘটনায় স্ত্রীর সংশ্লিষ্টতা ও তার প্রেমিকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠে বৃহত্তর খুলিছড়া।

নিজের এলাকার মানুষের উন্নয়নে কিছু করার তাগিদে বহু প্রত্যাশা নিয়ে অল্প কিছুদিন আগেই জিপি সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন খুলিছড়া জিপির নবনির্বাচিত সভাপতি ইমরান হোসেন বড়ভূঁইঞা। দাম্পত্য জীবনেও ছিলেন সুখী, ফুটফুটে দুই সন্তান রয়েছে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, পারিবারিক সম্পর্কে অবনতি দেখা দেয়। অভিযোগ, প্রেমিকের সঙ্গে যোগসাজশে স্ত্রী ইমরানের খাবারে ক্ষতিকর/বিষাক্ত পদার্থ মেশানোর ঘটনার পর তাঁর করুণ মৃত্যু ঘটে।

প্রাথমিক অবস্থায় পরিবার ও স্বজনরা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইমরান মারা যাওয়ার ধারণা করলেও, খুব বেশি সময় তা স্থির থাকেনি। সন্দেহের ভিত্তিতে ইমরানের স্ত্রী রিনা বেগমের প্রেমিক গাড়ি চালক বিজু আহমদ লস্করকে আটক করা হলে তার মোবাইল ফোনে উদ্ধার হওয়া বার্তালাপে পরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলেছে বলে জানা যায়। জরুরি প্রক্রিয়ায় সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করে মৃত্যুর ১০ দিন পর, বৃহস্পতিবার কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে আজ শুক্রবার বিকেলে জিপি সভাপতির মরদেহ পরিবারের হাতে হস্তান্তর হলে চাপা ক্ষোভের মধ্যেই দ্বিতীয় দফায় দাফন/শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

আজ বিকেল তিনটার দিকে ইমরানের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়িতে পৌঁছানোর পর জানাজার আয়োজন ছাড়াই সরাসরি কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এই শোকযাত্রায় এলাকার সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন। ১০ দিন আগে যে কবরে তাকে প্রথম দাফন করা হয়েছিল, ঠিক তার পাশেই নতুন করে আরেকটি কবর তৈরি করে দ্বিতীয়বার সমাহিত করা হয়। দাফনের পর এক মর্মস্পর্শী মোনাজাতে কেঁদে ভাসেন আপনজন ও গুণগ্রাহী মানুষ। জনতার ভিড় থেকেই দোষীদের ফাস্ট-ট্র্যাক বিচারে কঠোর শাস্তির দাবি তোলা হয়। ইমরান রাজনীতির পাশাপাশি একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। জনপ্রিয় এই স্থানীয় নেতার মর্মান্তিক ঘটনাকে ঘিরে অভিযুক্তদের আইনি সহায়তা না দেওয়ার অনুরোধও তোলেন অনেকেই।

প্রসঙ্গত, ইমরানকে পরিকল্পিতভাবে ক্ষতি করার ঘটনায় প্রাক্তন গাড়ি চালক বিজু লস্করের মোবাইল ফোনের বার্তালাপ থেকে যোগসাজশের ইঙ্গিত মিলতেই ইমরানের ভাই নাগিব আহমেদ বড়ভূঁইয়া ইতিমধ্যে ধলাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় স্ত্রী রিনা বেগম, বিজু আহমদ লস্কর, শ্বশুর বাবুল উদ্দিন, শ্যালক সাদিক আহমেদসহ মোট ছয়জনের নাম উল্লেখ রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত চলছে এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *