ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদী বিক্ষোভে সরব রাজপথ। ঈরালীগুলের পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের নানা অনিয়ম ও বেহাল দুর্দশার বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানান বিশাল সংখ্যক ছাত্রছাত্রীরা। “বাথরুমে একজন গেলে দরজা ধরে রাখার জন্য সঙ্গে যেতে হয় আরেকজনকে” — সরকারি কলেজের এই সমস্যা সংবাদ মাধ্যমে তুলে ধরছেন ছাত্রছাত্রীরা।

ছাত্র বিক্ষোভ দমাতে প্রতিবাদী কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেওয়া ৫ পড়ুয়াকে অধ্যক্ষার কক্ষে ডেকে পুলিশকে দিয়ে সতর্ক করার ভিডিও সামনে এসেছে, কলেজের অনিয়ম শোধরানোর কোনো ভাবনা নেই কর্তৃপক্ষের। উল্টো ছাত্র বিক্ষোভ দমাতে আন্দোলনের নেতৃত্বকে সতর্ক করার ভিডিও সামনে আসতেই বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
পরিকাঠামোগত ও শৈক্ষিক হাজারো সমস্যায় জর্জরিত দক্ষিণ করিমগঞ্জের পণ্ডিত দীন দয়াল উপাধ্যায় কলেজের কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার বিরুদ্ধে আজ ছাত্রছাত্রী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে চেরাগীবাজারস্থিত অসম-ত্রিপুরা জাতীয় সড়ক। অভিযোগ, অধ্যক্ষা জয়শ্রী চক্রবর্তী নিয়মিত কলেজে আসেন না, পরিকাঠামোগত ও শৈক্ষিক অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বললেই ছাত্রছাত্রীদের বহিষ্কারের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। বাথরুম-শৌচালয়ে জল থাকলেও ব্যবহারের কোনো পাত্র নেই, পাত্র থাকলেও জল থাকে না, দরজা থাকলেও সিটকিনি নেই। এমনই বেহাল অবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে ফেইল করে রাখা ও বকেয়া দেখিয়ে দেওয়ার মতো সতর্কবার্তা দিয়ে চাপে রাখার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রীরা। তাদের দাবি, নানা অনুষ্ঠানের জন্য সরকারি তহবিল বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে কোনো অনুষ্ঠান হয় না। পাশাপাশি, কলেজের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এখনও পর্যন্ত গঠিত হয়নি ছাত্র সংসদ।
৭৯ তম স্বাধীনতা দিবসে শুধুমাত্র পতাকা উত্তোলন করে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করেছেন অধ্যক্ষা জয়শ্রী । ছাত্রছাত্রীদের জন্য কলেজে থাকা পানীয় জলের ফিল্টারে অস্বাস্থ্যকর অবস্থা দেখা গেছে বলে অভিযোগ। শৌচালয়ে প্রায়ই জল থাকে না, জেনারেটর মেশিন থাকলেও ব্যবহার হয় না, বহু ক্লাসরুমে নেই ন্যূনতম সিলিং ফ্যান পর্যন্ত।
ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ অনুযায়ী, নানা সমস্যার কথা অধ্যক্ষাকে জানিয়েও কোনো সমাধান মেলেনি। মাঝে মধ্যে কলেজে উপস্থিত থাকেন অধ্যক্ষা। অভিযোগ আরও উঠেছে, আবদার বা সমস্যা জানালে অধ্যক্ষার কাছ থেকে উপযুক্ত সমাধানের পরিবর্তে সতর্কবার্তা দিয়ে চাপে রাখার চেষ্টা করা হয়।
আজ, বুধবার নানা সমস্যায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক ছাত্রছাত্রী চেরাগীবাজারস্থিত অসম-ত্রিপুরা জাতীয় সড়কে অবরোধ গড়ে তুলে কলেজের অনিয়মের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ জানায়। প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ চলার পর পাথারকান্দি থানার ওসি ও বারইগ্রাম পুলিশ চৌকির ইনচার্জের তৎপরতায় ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে অবরোধ প্রত্যাহারে সফল হন। এর পরেই অভিযোগ ওঠে, কলেজের পাঁচ পড়ুয়াকে অধ্যক্ষার কক্ষে ডেকে এনে পুলিশ উপস্থিতিতে সতর্ক করা হয়েছে।
