জম্মুতে কর্তব্যরত অবস্থায় শহিদ হওয়া বরাকের রাজীব নুনিয়াকে শেষ বিদায়। উধারবন্দে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন শহিদ রাজীব নুনিয়ার। পরিবার, প্রশাসন, সেনা-বাহিনী ও অসংখ্য মানুষের উপস্থিতিতে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সাহসী সন্তান।

জম্মুতে কর্তব্য পালনকালে শহিদ হওয়া কাছাড়ের উধারবন্দের সাহসী সন্তান রাজীব নুনিয়ার মরদেহ শুক্রবার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পঞ্চভূতে বিলীন হয়। সকালে প্রায় আটটার সময় বিএসএফ কর্মকর্তারা বিশেষ বিমানে শহিদের দেহ নিয়ে অবতরণ করেন শিলচরের কুম্ভীরগ্রাম বিমানবন্দরে। সেখান থেকে সেনার কনভয়ে মরদেহ নিয়ে আসা হয় তাঁর উধারবন্দের বাসভবনে। বাড়িতে পৌঁছামাত্রই সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে শোকের ছায়া, ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় প্রশাসনকে। প্রায় এক ঘন্টা নিজের পরিবারের কাছে মরদেহ রেখে দেওয়ার পর নিয়ে আসা হয় উধারবন্দ শ্মশানঘাটে। এখানে বিএসএফের পক্ষ থেকে ২১ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে স্যালুট জানানো হয় শহিদকে, বাজানো হয় বিউগল। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয় তাঁর শেষকৃত্য।
শ্মশানে এবং বাসভবনে শহিদের মরদেহে শ্রদ্ধা জানান জেলাশাসক মৃদুল যাদব, পুলিশ সুপার নুমল মাহাত্তা, সার্কল অফিসার ঋতুরাজ বরদলৈ, উধারবন্দ থানার ওসি সি তিমুং, মাছিমপুর ব্যাটালিয়নের ডিসি গণেশ দত্ত, ডিআইজি পিপি মাওলং সহ প্রশাসনিক ও সেনা-বাহিনীর বহু পদাধিকারী।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী অজিত সিংহ, কংগ্রেস জেলা সভাপতি সজল আচার্য, ব্লক কংগ্রেস সভাপতি সন্দীপন নন্দী, ললিত গোয়ালা, তাপস দাস, পল্লব সিং যাদব, বিজেপির নীলাভ মৃদুল মজুমদার, মিঠুন নাথ, প্রবাল চন্দ, প্রসেনজিৎ ভট্টাচার্য, নবারুণ চক্রবর্তী, রুপন চক্রবর্তী সহ রাজনৈতিক দলের বহু নেতা। স্থানীয় সাংবাদিক মহল, নূপুর নৃত্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে মিত্রা সেন ও তাঁর ছাত্র-ছাত্রী, উধারবন্দ স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জগন্নাথ রায়, নেপাল সিংহ, সুধাংশু দাস প্রমুখ শহিদকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। শহিদ রাজীব নুনিয়ার এই আত্মবলিদানে উধারবন্দ তথা সমগ্র বরাক উপত্যকা শোকাহত। তবে তাঁর বীরত্বপূর্ণ মৃত্যু দেশবাসীর মনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
