৩ বছরের মধ্যে স্কুলে মাত্র ৩ মাস মিড-ডে-মিল বন্টন! প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ তছরুপ ও অনিয়মের অভিযোগ খোদ স্কুল সভাপতির। নবগঠিত বড়খলার তাপাং ১ম খন্ড নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যাহ্নভোজন বন্টনে অনিয়মের অভিযোগ তুললেন স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি সহ অভিভাবকরা।
গত তিন বছরের মধ্যে তিন মাস মিড ডে মিল বন্টন করা হয়েছে। এরপর থেকে মিড ডে মিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এমতাবস্থায় স্কুলের করুন এক পরিস্থিতির মধ্যে প্রধান শিক্ষক আবুল খায়ের হাসানুজ্জামান চৌধুরী বদলি নিয়ে গেলেন। তার বদলির খবর জানেন না সহকারী শিক্ষক কাবিরুল ইসলাম সহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি। এব্যাপারে ক্ষুব্ধ বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবক সহ গ্ৰামবাসীরা।

প্রধান শিক্ষক আবুল খায়ের হাসানুজ্জামান চৌধুরী এই স্কুলে আসার পর থেকে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা লাটে উঠেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবক ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি। অভিযোগ, বেশিরভাগ সময় স্কুলে অনুপস্থিত থাকেন প্রধান শিক্ষক। সপ্তাহে দু’একদিন স্কুলে এলে সকাল এগারোটায় এসে দুপুর বারোটার মধ্যে চলে যান। এব্যাপারে পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বড়ভূইয়া জানান, তিনি প্রধান শিক্ষককে তার অনুপস্থিতি ও মিড ডে মিলের বিষয়ে প্রশ্ন করলে প্রত্যাশিত উত্তর পাননি। বরং প্রধান শিক্ষক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এটি তাঁর দায়িত্ব এবং এ বিষয়ে কারো হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। এমনকি অভিভাবক ও পরিচালনা কমিটির দাবি, আর্থিক কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজ এবং মধ্যাহ্নভোজনের জন্য অর্থ ব্যাংক থেকে উত্তোলনের ক্ষেত্রে সভাপতির দস্তখত নেওয়ার নিয়ম থাকলেও, প্রধান শিক্ষক কীভাবে দস্তখত ছাড়া টাকা উত্তোলন করেন তা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন।

এদিকে, পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বড়ভূইয়া অভিযোগ করে জানান, তিনি স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল খায়ের হাসানুজ্জামান চৌধুরীর অনিয়মের বিষয় জনসম্মুখে তুলে ধরায় প্রধান শিক্ষক তাকে কটূক্তি করেন বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি তিনি অভিভাবক ও গ্রামবাসীদের অবগত করান। অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রধান শিক্ষককে ঘিরে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরও বদলি কেন করা হলো তা নিয়ে তারা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। এ নিয়ে বিভাগীয় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা সম্পর্কেও প্রশ্ন তোলেন অভিভাবকরা।
