পপ সঙ্গীতের রাণী Asha Bhosle কে হারিয়ে শোকাহত দেশ

পপ সঙ্গীতের রাণী Asha Bhosle কে হারিয়ে শোকাহত দেশ
  • ভারতীয় পপ সঙ্গীতের রানিকে হারিয়ে শোকাহত গোটা দেশ।
  • ৯২ বছর বয়সে প্রয়াত কিংবদন্তি সঙ্গীত শিল্পী আশা ভোঁসলে।
  • বুকে সংক্রমণ নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
  • আজ রবিবার সেই হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন শিল্পী।
  • নিজের কেরিয়ারে ১২,০০০-এরও বেশি গান রেকর্ড করেছিলেন আশা।
  • ২০টিরও বেশি ভারতীয় ও বিদেশি ভাষায় গান গেয়েছেন তিনি।
  • ভারতীয় সঙ্গীতের এই মহীরুহের প্রয়াণে শোকজ্ঞাপন করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী।
  • আগামিকাল সকাল ১১টা থেকে বিকেল ২টা পর্যন্ত মুম্বইয়ের বাসভবনে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাখা হবে শিল্পীর পার্থিব দেহ।
  • বিকেল ৪টায় শিবাজী পার্কে শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
পপ সঙ্গীতের রাণী Asha Bhosle কে হারিয়ে শোকাহত দেশ

ভারতীয় সঙ্গীতজগতে আজ নেমে আসলো শোকের ছায়া। মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ৯২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মাল্টি-অর্গান ফেলিওরের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু এই মহান শিল্পীর জীবনে এমন অনেক অজানা অধ্যায় রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে অপরিচিত।

 

১৯৩৩ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন গায়িকা। ভারতীয় সঙ্গীতের উজ্জ্বল নক্ষত্র তিনি। কয়েক দশক জুড়ে তাঁর কণ্ঠে অসংখ্য জনপ্রিয় গান শ্রোতাদের মন জয় করেছে। হিন্দি, বাংলা-সহ একাধিক ভাষায় গান গেয়েছেন তিনি। দীর্ঘ কয়েক দশকের কেরিয়ারে হিন্দি, বাংলা-সহ একাধিক ভাষায় হাজার হাজার গান গেয়েছেন তিনি। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত থেকে আধুনিক, গজল থেকে ক্যাবারে—প্রতিটি ধারাতেই নিজের স্বতন্ত্র ছাপ রেখেছেন তিনি। তাঁর গাওয়া অসংখ্য গান আজও সমান জনপ্রিয়। সময়ের সীমানা পেরিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করে চলেছে।

 

তাঁর কণ্ঠে জন্ম নিয়েছে অসংখ্য কালজয়ী গান, যা ভারতীয় সিনেমা ও সঙ্গীতের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে রয়েছে। আশা ভোঁসলের গাওয়া গান মানেই এক অনন্য বৈচিত্র্য। একদিকে যেমন ‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘দম মারো দম’, ‘ইয়ে মেরা দিল’–এর মতো ক্যাবারে ও ওয়েস্টার্ন ধারার গান। অন্য দিকে আবার ‘ইন আঁখোঁ কি মস্তি’, ‘মেরা কুছ সামান’, ‘দিল চিজ় ক্যা হ্যায়’–এর মতো গজল ও আধুনিক সুরে তিনি শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন।

 

বাংলা গানেও তাঁর অবদান সমান উজ্জ্বল। ‘চোখে চোখে কথা বলো’, এনে দে রেশমি চুড়ি’, ‘একটা দেশলাই কাঠি জ্বালও’, ‘মন মেতেছে মন ময়ূরী’ বা ‘আকাশ প্রদীপ জ্বলে-র মতো গান আজও জনপ্রিয়। ১৯৫০-এর দশক থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ের একাধিক প্রজন্মের অভিনেত্রীর কণ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। হেলেনের নাচের গান হোক বা রেখার পর্দার আবেগ, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর কণ্ঠ আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। সুরকারদের সঙ্গে তাঁর সৃষ্টিশীল জুটিও আলাদা একটা অধ্যায়।

 

আশা ভোঁসলের প্রয়াণে শোকজ্ঞাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “ভারতের অন্যতম সেরা ও বহুমুখী কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলেজির প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত । কয়েক দশকব্যাপী তাঁর অসাধারণ সঙ্গীতযাত্রা আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে এবং বিশ্বজুড়ে অগণিত মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছে । তাঁর হৃদয়স্পর্শী সুর হোক বা প্রাণবন্ত কম্পোজিশন, তাঁর কণ্ঠে ছিল এক চিরন্তন ঔজ্জ্বল্য । তাঁর সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো আমি চিরকাল মনে রাখব । তাঁর পরিবার, অনুরাগী এবং সঙ্গীতপ্রেমীদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা । তিনি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবেন এবং তাঁর গান মানুষের জীবনে চিরকাল অনুরণিত হবে ।”

 

পশ্চিবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও আশা ভোঁসলের প্রয়াণে শোকবার্তা দিয়েছেন ৷ তিনি এদিন সোশাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “মহান সঙ্গীত প্রতিভা আশা ভোঁসলের প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত । তিনি ছিলেন একজন অনুপ্রেরণাদায়ী ও মন্ত্রমুগ্ধকর গায়িকা, যিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের হৃদয়ে রাজত্ব করেছেন । তিনি অনেক বাংলা গানও গেয়েছেন এবং বাংলাতেও অত্যন্ত জনপ্রিয় । 2018 সালে আমরা তাঁকে আমাদের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘বঙ্গবিভূষণ’ প্রদান করেছিলাম । তাঁর পরিবার, সঙ্গীত জগৎ এবং বিশ্বজুড়ে তাঁর কোটি কোটি ভক্তদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা রইল ।”

 

সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরের বোন আশা ভোঁসলে৷ তবে তিনি কেবল তাঁর দিদির খ্যাতির ছায়ায় থাকেননি ৷ বরং সেই ছায়া থেকে বেরিয়ে এসে এক নিজস্ব জগৎ তৈরি করেছিলেন ৷ আট দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি রোমান্টিক ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীত থেকে শুরু করে ক্যাবারে গান ও গজল পর্যন্ত গেয়েছেন ৷ বিভিন্ন ভাষায় হাজার হাজার গান রেকর্ড করেছেন তিনি ।

দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার, জাতীয় পুরস্কার, পদ্মবিভূষণ-সহ বহু সম্মানে ভূষিত হয়েছেন আশা ভোঁসলে । তিনি একজন সফল উদ্যোগপতিও ছিলেন, দুবাই ও ব্রিটেনে চলে তাঁর জনপ্রিয় ‘আশা’ রেস্তরাঁ ৷ তাঁর প্রয়াণ একটি যুগের অবসান ঘটালেও, তাঁর কালজয়ী গানগুলো চিরকাল বেঁচে থাকবে সঙ্গীতপ্রেমীদের হৃদয়ে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *