সৌদির জেলে ২০ বছর: ৩৪ কোটির ‘ব্লাড মানি’তে মৃত্যুদণ্ড থেকে মুক্তি পেলেন কেরলের আবদুল রহিম

Kerala’s Abdul Rahim
```html

সৌদির জেলে কাটালেন ২০ বছর!
৩৪ কোটির ‘ব্লাড মানি’তে মুক্তি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ভারতীয়ের

দীর্ঘ ২০ বছরের কারাবাসের পর অবশেষে দেশে ফিরলেন কেরলের আবদুল রহিম

HEADROOM

  • সৌদির জেলে ২০ বছর পর দেশে ফিরলেন আবদুল রহিম
  • ৩৪ কোটির ‘ব্লাড মানি’তে মুক্তি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ভারতীয়ের
  • নাবালক হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল
  • ২০ বছর পর সৌদি জেল থেকে মুক্ত কেরলের আবদুল

২০০৬ সালে সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন কেরলের কোঝিকোড়ের বাসিন্দা আবদুল রহিম। স্বপ্ন ছিল পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করা, বিদেশে কাজ করে ভালো উপার্জন করা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্নই পরিণত হয় এক দীর্ঘ দুঃস্বপ্নে। সৌদি আরবের এক নাবালকের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত হয়ে গ্রেফতার হন তিনি। পরে আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। দীর্ঘ ২০ বছর কারাগারে কাটানোর পর অবশেষে ‘ব্লাড মানি’ বা আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে মুক্তি পেলেন আবদুল রহিম।

বৃহস্পতিবার ভোরে সৌদি আরবের রিয়াধ থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে কেরলের কারিপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছন তিনি। বিমানবন্দরে তাঁকে ঘিরে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। দীর্ঘ দুই দশক পর ছেলেকে ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় মানুষজনও আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।

কীভাবে শুরু হয়েছিল এই ঘটনা?

২০০৬ সালে বেশি রোজগারের আশায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন আবদুল রহিম। সেখানে তিনি এক পক্ষাঘাতগ্রস্ত ১৫ বছর বয়সি কিশোরের ব্যক্তিগত চালক ও তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ শুরু করেন। কিশোরটির শ্বাসপ্রশ্বাস একটি বাহ্যিক চিকিৎসা যন্ত্রের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হত।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর গাড়ি চালানোর সময় হঠাৎ সেই চিকিৎসা যন্ত্রের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে ওই কিশোরের মৃত্যু হয়। ঘটনার মাত্র ২৮ দিনের মধ্যেই গ্রেফতার করা হয় আবদুলকে।

আদালতে আবদুল দাবি করেছিলেন, গাড়ি চালানোর সময় কিশোর আচমকা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করতে গিয়েই অসাবধানতাবশত চিকিৎসা যন্ত্রে হাত লেগে যায়। কিন্তু সৌদি আদালত সেই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি।

২০১১ সালে মৃত্যুদণ্ড

দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার পর ২০১১ সালে সৌদি আদালত আবদুল রহিমকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরে ২০২২ সালে আপিল আদালতও সেই রায় বহাল রাখে। ফলে কার্যত মৃত্যুর অপেক্ষায় দিন কাটাতে হচ্ছিল তাঁকে।

কী এই ‘ব্লাড মানি’ বা ‘দিয়াহ’?

ইসলামি আইনে ‘দিয়াহ’ বা ‘ব্লাড মানি’ এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে নিহত ব্যক্তির পরিবার আর্থিক ক্ষতিপূরণ গ্রহণের বিনিময়ে অভিযুক্তকে ক্ষমা করতে পারে। সৌদি আরব, ইরান, পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো বহু দেশে এই আইনগত ব্যবস্থা বিদ্যমান।

আবদুল রহিমের ক্ষেত্রেও একই পথেই আসে মুক্তি। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২৪ সালে নিহত কিশোরের পরিবার প্রায় ১৫ লক্ষ সৌদি রিয়াল ক্ষতিপূরণ গ্রহণে সম্মত হয়। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ আনুমানিক ৩৪ কোটিরও বেশি।

এই বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হয় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা ভারতীয় ও মালয়ালি সম্প্রদায়ের সহায়তায়। ‘ক্রাউড ফান্ডিং’-এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ এগিয়ে আসেন। বহু প্রবাসী ভারতীয় ছোট-বড় অনুদান দিয়ে এই মানবিক উদ্যোগে অংশ নেন।

ভারতীয় দূতাবাসের ভূমিকা

সৌদি আরবে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস দীর্ঘদিন ধরে এই মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছিল। কূটনৈতিক স্তরে একাধিকবার সৌদি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। আইনি সহায়তা, কনস্যুলার সহায়তা এবং বিভিন্ন আলোচনার মাধ্যমে আবদুল রহিমের মামলাটি আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনায় আসে।

ভারতীয় দূতাবাসের দীর্ঘ আইনি ও কূটনৈতিক তৎপরতার ফলেই শেষ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাহার করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

২০ বছরের বন্দিজীবন

দুই দশক ধরে কারাগারে কাটানো সহজ নয়। পরিবারের থেকে দূরে, অনিশ্চয়তার মধ্যে মৃত্যুর অপেক্ষা— এই দীর্ঘ সময় আবদুল রহিমের জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় হয়ে ওঠে।

তবুও তিনি আশা ছাড়েননি। পরিবারের সদস্যরাও হাল ছাড়েননি। বছরের পর বছর ধরে তাঁরা আইনি লড়াই চালিয়ে গেছেন।

দেশে ফেরার পর আবেগঘন মুহূর্ত

অবশেষে ২০২৬ সালে দেশে ফেরেন আবদুল রহিম। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন পরিবারের সদস্যরা, আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

বহু মানুষ এই ঘটনাকে “দ্বিতীয় জীবন” হিসেবে বর্ণনা করছেন। সামাজিক মাধ্যমেও এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, মানবিক সহায়তা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার এক বিরল উদাহরণ এটি।

আবার অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা নিয়ে। কারণ উন্নত জীবনের আশায় বহু ভারতীয় প্রতিদিন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কাজের উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচিত ঘটনা

আবদুল রহিমের ঘটনা শুধু ভারতেই নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। ‘ব্লাড মানি’ ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কেউ এটিকে মানবিক সমাধান হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন এটি অর্থের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার একটি উপায়।

তবে এই বিতর্কের মাঝেও একটি বিষয় স্পষ্ট— ২০ বছরের দীর্ঘ কারাবাসের পর একজন মানুষ আবার নিজের দেশে, নিজের পরিবারের কাছে ফিরে আসতে পেরেছেন।

CONLUSION

সৌদি আরবের জেল থেকে মুক্ত কেরলের আবদুল রহিম। ২০ বছর কারাবাসের পর দেশে ফেরা। নাবালক হত্যার মামলায় হয়েছিল মৃত্যুদণ্ড। ৩৪ কোটির ‘ব্লাড মানি’তে মেলে মুক্তি। ভারতীয় দূতাবাসের দীর্ঘ আইনি ও কূটনৈতিক তৎপরতা।

২০ বছর পর সৌদি জেল থেকে মুক্ত ভারতীয়।
৩৪ কোটির ‘ব্লাড মানি’ ঘিরে আন্তর্জাতিক চর্চা।

#SaudiArabia #AbdulRahim #KeralaNews #IndiaNews #BreakingNews #InternationalNews

```

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *