জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে কংগ্রেসের বিক্ষোভ, গুয়াহাটিতে আটক গৌরব গগৈ

congress-protest-ec-gyanesh-kumar-resignation-gaurav-gogoi-detained

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে কংগ্রেসের বিক্ষোভ, গুয়াহাটিতে আটক গৌরব গগৈ

নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ: জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভে নামল কংগ্রেস। পাটনায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করা হয়। গুয়াহাটিতে আটক করা হয় গৌরব গগৈ-সহ কংগ্রেস নেতাদের। কলকাতা-সহ একাধিক শহরেও দেখা যায় প্রতিবাদ মিছিল।


নিজস্ব সংবাদদাতা: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার দেশজুড়ে পথে নামে কংগ্রেস। দেশের একাধিক রাজ্যে বিক্ষোভ-মিছিলকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। কোথাও পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, কোথাও আবার বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ব্যবহার করা হয় জলকামান।

অসমের গুয়াহাটিতে আটক করা হয় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা লোকসভার ডেপুটি লিডার গৌরব গগৈ-সহ বেশ কয়েকজন কংগ্রেস নেতাকে। কলকাতা-সহ আরও একাধিক শহরেও দেখা যায় প্রতিবাদ মিছিল।

কেন বিক্ষোভে নামল কংগ্রেস?

এই বিক্ষোভের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR (Special Intensive Revision) এবং নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা প্রশ্ন।

The Indian Express-এর একটি তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধন, নতুন ভোটার যুক্ত করা, নাম বাদ দেওয়া এবং ভোটার সংক্রান্ত তথ্য ও সফটওয়্যার ব্যবস্থাপনা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই নির্বাচন কমিশনার—সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী— কিছু সিদ্ধান্ত তাঁদের অবগত না করেই নেওয়া হয়েছে বলে লিখিত আপত্তি জানান। তাঁদের আপত্তির মধ্যে SIR-সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ও ছিল।

রাহুল গান্ধীর পদত্যাগ দাবি

The Indian Express-এর ওই প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন।

বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপরই শুক্রবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয় কংগ্রেস।

দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিল

দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে এগোনোর চেষ্টা করেন কংগ্রেস কর্মীরা। ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা হলে পুলিশ বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে।

দিল্লিতে ভারতীয় যুব কংগ্রেসের কর্মীদেরও আলাদা প্রতিবাদ কর্মসূচি দেখা যায়। জ্ঞানেশ কুমারের মুখের আদলে তৈরি মুখোশ এবং বিভিন্ন পোস্টার-ব্যানার নিয়ে রাস্তায় নামেন তাঁরা।

রায়সিনা রোড থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরের দিকে এগিয়ে যান বিক্ষোভকারীরা। দিল্লি কংগ্রেসের সভাপতি দেবেন্দ্র যাদবও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানান এবং নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

গুয়াহাটিতে আটক গৌরব গগৈ

অসমেও একই ইস্যুতে পথে নামে কংগ্রেস। গুয়াহাটির রাজীব ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল বের করেন কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা।

মিছিল এগোতেই পুলিশের বাধার মুখে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। তৈরি হয় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি। শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভস্থল থেকে আটক করা হয় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা লোকসভার ডেপুটি লিডার গৌরব গগৈ-সহ বেশ কয়েকজন কংগ্রেস নেতাকে।

দেশজুড়ে কংগ্রেসের এই কর্মসূচির অন্যতম বড় কেন্দ্র হয়ে ওঠে গুয়াহাটিও।

পাটনায় জলকামান ব্যবহার

অন্যদিকে, বিহারের পাটনাতেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন কংগ্রেসের বহু নেতা-কর্মী।

বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। একইভাবে চণ্ডীগড়েও বিক্ষোভকারীদের আটক ও জলকামান ব্যবহারের খবর সামনে এসেছে।

কলকাতা-সহ একাধিক শহরে প্রতিবাদ

শুধু দিল্লি, গুয়াহাটি বা পাটনা নয়—দেশের আরও বেশ কয়েকটি শহরে ছড়িয়ে পড়ে কংগ্রেসের এই প্রতিবাদ কর্মসূচি।

পুদুচেরী, ইম্ফল, শিমলা, শ্রীনগর, দেহরাদুন, জম্মু এবং কলকাতা-সহ একাধিক শহরে পথে নামেন কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা।

কোথাও মিছিল, কোথাও স্লোগান, আবার কোথাও নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা—সব মিলিয়ে শুক্রবার দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ দেখা যায়।

বিক্ষোভের মূল ইস্যু কী?

এই বিক্ষোভের পেছনে মূলত দুটি বিষয়কে সামনে রাখছে কংগ্রেস। প্রথমত, SIR-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং দ্বিতীয়ত, নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা প্রশ্ন।

The Indian Express-এর তদন্তে দুই নির্বাচন কমিশনারের লিখিত আপত্তির কথা প্রকাশ্যে আসার পরই এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য

তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ভিন্নমত বা পর্যবেক্ষণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ারই অংশ।

কমিশন লিখিত মতামত, প্রযুক্তিগত পরামর্শ এবং অভ্যন্তরীণ checks and balances-কে স্বাভাবিক প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।

সংসদে অপসারণের প্রস্তাবের প্রস্তুতি?

এদিকে বিরোধী দলগুলির একাংশ জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করছে।

বিরোধী শিবির সংসদে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও The Indian Express-এর সূত্রের ভিত্তিতে জানিয়েছে।

ফলে SIR, ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য— এই তিন ইস্যুকে ঘিরেই এখন জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর।

এখন নজর নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপে

একদিকে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে আসা মতপার্থক্য, অন্যদিকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের লাগাতার আন্দোলন— সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে।

শুক্রবারের দেশজোড়া বিক্ষোভে দিল্লি থেকে গুয়াহাটি, পাটনা থেকে কলকাতা— একাধিক শহরে দেখা গেল তারই প্রতিফলন। এখন নজর, এই আন্দোলন এবং রাজনৈতিক চাপের পর নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কী ব্যাখ্যা সামনে আসে।

বিষয়: জ্ঞানেশ কুমার, কংগ্রেস বিক্ষোভ, নির্বাচন কমিশন, SIR, গৌরব গগৈ, ভোটার তালিকা, নির্বাচন কমিশন বিতর্ক

সূত্র: The Indian Express ও সংশ্লিষ্ট প্রকাশ্য তথ্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *