- ভোটের দু’দিন আগে ট্রাইব্যুনাল ছাড়পত্র দিলেও ভোট দেওয়া যাবে!
- বাতিল ভোটারদের নিয়ে রায় জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট।
- বাংলায় ভোটের আগেই বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের।
- ট্রাইব্যুনালের ছাড়পত্রে ভোট দিতে পারবেন অনেকেই।
- সংবিধানের ১৪২ ধারায় বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করল সুপ্রিম কোর্ট।
- শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিল, ২১ এপ্রিল ও ২৭ এপ্রিলের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে ছাড়পত্র পাওয়া ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে কমিশনকে।
- নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনুমোদন না পেলে ভোট দেওয়া যাবে না বলেও জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।
- ট্রাইব্যুনালে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ছাড়পত্র পাওয়া ভোটাররা ২৩ এপ্রিল ভোট দিতে পারবেন।
- বাতিল ভোটার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে উচ্ছ্বসিত মমতা, দলের কর্মীদের বিশেষ নির্দেশ
কি বলা হয়েছে—সহজ ভাষায় বুঝে নেওয়া যাক:
যেসব ভোটারের নাম আগে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, তাদের জন্য নতুন করে একটা সুযোগ রাখা হয়েছে। যদি তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল থেকে অনুমোদন (ছাড়পত্র) পেয়ে যান, তাহলে তারা আবার ভোট দিতে পারবেন।
এখানে আদালত সংবিধানের ১৪২ নম্বর ধারা ব্যবহার করেছে, যাতে ন্যায্যতা বজায় থাকে এবং কেউ অযথা বঞ্চিত না হন।
সময়সীমা খুব গুরুত্বপূর্ণ:
- ২১ এপ্রিলের মধ্যে যারা ট্রাইব্যুনাল থেকে অনুমোদন পাবেন, তারা ২৩ এপ্রিল ভোট দিতে পারবেন।
- ২১ থেকে ২৭ এপ্রিলের মধ্যে যাদের অনুমোদন মিলবে, তাদের নাম নির্বাচন কমিশনকে প্রকাশ করতে হবে।
- তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনুমোদন না পেলে আর ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
এর মানে কী?
আগে যাদের ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল, তাদের জন্য একটা সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু এই সুযোগ পুরোপুরি সময়সীমার ওপর নির্ভর করছে—ডেডলাইনের পর আর কিছু করার থাকবে না।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:
এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তিনি দলীয় কর্মীদের আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
সারকথা:
আদালত এমন একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেখানে একদিকে যোগ্য ভোটারদের অধিকার রক্ষা করা হয়েছে, আর অন্যদিকে নির্বাচন প্রক্রিয়াও যেন ঠিক সময়ে সম্পন্ন হয়, সেটাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
তুমি চাইলে আমি ট্রাইব্যুনাল কী, কেন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যায়—এসব বিষয় আরও সহজভাবে ব্যাখ্যা করে দিতে পারি।
ভোটের ঠিক আগে বড় স্বস্তি পশ্চিমবঙ্গের বহু ভোটারের জন্য! গুরুত্বপূর্ণ রায়ে Supreme Court of India জানিয়ে দিল—ট্রাইবুনাল থেকে ছাড়পত্র মিললে ভোটের দু’দিন আগেও তালিকায় নাম উঠে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে। এসআইআর মামলায় সংবিধানের ১৪২ ধারা প্রয়োগ করেই এই নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বাতিল ভোটারদের ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়ের পর স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। রাজ্যের মানুষকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের জন্যও আলাদা বার্তা দেন তিনি।
রাজ্যে ২৩ এপ্রিল প্রথম দফা এবং ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটকে সামনে রেখে আদালত স্পষ্ট করেছে, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কারণে যেসব ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে যাঁরা ২১ এপ্রিল (প্রথম দফা) এবং ২৭ এপ্রিল (দ্বিতীয় দফা) পর্যন্ত ট্রাইবুনাল থেকে অনুমোদন পাবেন, তাঁরাই ভোট দিতে পারবেন। তবে ট্রাইবুনাল যাঁদের আবেদন খারিজ করবে, তাঁদের ভোটাধিকার থাকবে না।
সাধারণ নিয়মে মনোনয়ন জমার শেষ দিনেই ভোটার তালিকা স্থির করে দেয় নির্বাচন কমিশন। কিন্তু এবার বিশেষ পরিস্থিতিতে আদালত সেই নিয়মে শিথিলতা এনে জানিয়ে দিয়েছে—ভোটের দু’দিন আগ পর্যন্ত ট্রাইবুনাল যদি কোনো বিবেচনাধীন ভোটারের আবেদন নিষ্পত্তি করে নাম তালিকায় তোলার অনুমোদন দেয়, তাহলে তাঁরাও ভোট দিতে পারবেন। তবে শুধু আবেদন করলেই হবে না, চূড়ান্ত ছাড়পত্র পাওয়া বাধ্যতামূলক।
উল্লেখ্য, রাজ্যে মোট ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটার ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় ছিলেন, যার মধ্যে প্রায় ২৭ লক্ষের নাম বাদ পড়ে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তাঁরা এখন ট্রাইবুনালে আবেদন করে আবারও ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। সবচেয়ে বড় বিষয়, এর জন্য সশরীরে হাজিরা বাধ্যতামূলক নয়—ইসিআইনেট অ্যাপ, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট বা জেলা ও মহকুমা প্রশাসনের দফতরের মাধ্যমেও আবেদন করা যাবে।
এই প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত আপিল ট্রাইবুনাল আবেদনকারীদের নথি খতিয়ে দেখছেন। ইতিমধ্যেই ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১১৯ জনের নাম ভোটার তালিকায় ফিরেছে, যদিও এখনও ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জনের নাম বাদ রয়েছে।
এদিকে, বাতিল ভোটারদের ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়ের পর স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। রাজ্যের মানুষকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের জন্যও আলাদা বার্তা দেন তিনি। একই সঙ্গে মনে করিয়ে দেন, এসআইআর ইস্যুতে তিনিই প্রথম সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন—তাই এই রায়ে তাঁর আনন্দ সবচেয়ে বেশি।
ভোটের প্রচারে ব্যস্ত সূচির মাঝেই উত্তরবঙ্গে অবস্থান করছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কোচবিহারে পৌঁছেই তিনি এই রায়ের খবর পান। দিনহাটা থেকে হেলিকপ্টারে ওঠার সময়ই ‘সুখবর’টি জানতে পারেন বলে জানান তিনি। এরপর কোচবিহারের হেলিপ্যাডে নেমেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান।
মমতা বলেন, “সকলকে অভিনন্দন। প্রথম থেকেই আমি বলছিলাম ধৈর্য ধরতে। আজ সেই ধৈর্যের ফল মিলেছে। আমি খুব খুশি এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি গর্বিত।”
তিনি আরও জানান, এই মামলাটি তিনিই দায়ের করেছিলেন এবং শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে সরব ছিলেন। তাই সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর স্বাভাবিকভাবেই তাঁর আনন্দ অন্য সবার চেয়ে বেশি বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সব মিলিয়ে, শীর্ষ আদালতের এই রায়ের পর রাজনৈতিক মহলে যেমন আলোড়ন তৈরি হয়েছে, তেমনই সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।













Leave a Reply