পাথারকান্দিতে রেকর্ড জয়
কৃষ্ণেন্দু পালের
টানা তৃতীয়বার বিধায়ক — ৪৬,৭৬৪ ভোটের ঐতিহাসিক ব্যবধানে কংগ্রেসকে পরাজিত
পাথারকান্দি বিধানসভা কেন্দ্রে নতুন ইতিহাস রচনা করলেন বিজেপি নেতা কৃষ্ণেন্দু পাল। ২০২৬ সালের অসম বিধানসভা নির্বাচনে টানা তৃতীয়বারের মতো এই আসন থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে তিনি ভেঙে দিলেন পূর্ববর্তী সমস্ত রাজনৈতিক রেকর্ড।
ঐতিহাসিক জয়ের বিবরণ
২০২৬ সালের অসম বিধানসভা নির্বাচনে পাথারকান্দি আসনে বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু পাল কংগ্রেস প্রার্থী কার্তিক সেনা সিনহাকে প্রায় ৪৭,০০০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেন। এটি এই কেন্দ্রের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম জয় বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণেন্দু পালের জয়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৪,৪৬৭ ভোট। ২০২৬ সালে সেই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬,৭৬৪ ভোটে — অর্থাৎ মাত্র পাঁচ বছরে ব্যবধান বেড়েছে প্রায় দশগুণেরও বেশি।
| নির্বাচন বর্ষ | কৃষ্ণেন্দু পাল (বিজেপি) | জয়ের ব্যবধান | পরিবর্তন |
|---|---|---|---|
| ২০১৬ | বিজয়ী | – | – |
| ২০২১ | বিজয়ী | ৪,৪৬৭ | – |
| ২০২৬ | বিজয়ী | ৪৬,৭৬৪ | ▲ ~১০× বৃদ্ধি |
উষ্ণ সংবর্ধনা ও আনন্দ উৎসব
নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর পাথারকান্দিতে পৌঁছানো মাত্রই কৃষ্ণেন্দু পালকে দেওয়া হয় এক আবেগঘন ও বর্ণিল সংবর্ধনা। পাথারকান্দি মণ্ডল কার্যালয়ে হাজার হাজার দলীয় কার্যকর্তা ও সমর্থক বাজি-পটকা ফাটিয়ে এবং ব্যান্ড বাজিয়ে নবনির্বাচিত বিধায়ককে স্বাগত জানান।
এরপর বিধায়ক লোয়ারপোয়া বিজেপি কার্যালয়ে যান, যেখানে আবিরের রঙে মেতে ওঠে পুরো এলাকা। লোয়ারপোয়া যাওয়ার পথে বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীরা তাঁকে ফুল এবং ঐতিহ্যবাহী গামছা দিয়ে সংবর্ধনা জানান।
বিধায়কের বক্তব্য ও বিস্ফোরক মন্তব্য
জয়ের পর নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, এই বিশাল জয়ের কৃতিত্ব সম্পূর্ণরূপে পাথারকান্দির 'গণদেবতা'র। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন সরকারের উন্নয়নমুখী কাজের প্রতিফলনই এই ঐতিহাসিক জয়।
আমার এই বিশাল জয় একমাত্র পাথারকান্দির 'গণদেবতা'র আশীর্বাদের ফল। আসামে মুখ্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন সরকারের উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করার ফলেই জনগণ দু'হাত ভরে আশীর্বাদ দিয়েছেন।
— কৃষ্ণেন্দু পাল, বিধায়ক, পাথারকান্দি
কংগ্রেসকে কড়া আক্রমণ
কংগ্রেসের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে কৃষ্ণেন্দু পাল দাবি করেন, অসমে কংগ্রেস আর কোনো সর্বজনীন দল নেই — এটি কার্যত একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়-নির্ভর দলে পরিণত হয়েছে। তাঁর মতে, কংগ্রেস কেবল সেই আসনগুলোতেই জিততে পেরেছে যেখানে মুসলিম অধ্যুষিত জনসংখ্যার প্রাধান্য রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এমনকি কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীও এবারের নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন — যা দলটির নাজুক অবস্থানকেই প্রমাণ করে।
উল্লেখ্য: বিধায়কের এই মন্তব্য রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সূচনা করেছে। বিরোধী শিবির তাঁর বক্তব্যকে "বিভাজনমূলক রাজনীতি" বলে আখ্যা দিয়েছে, অন্যদিকে সরকারপক্ষ এটিকে নির্বাচনী বাস্তবতার প্রতিফলন বলছে।















Leave a Reply