ঘুমন্ত বাড়ি, হঠাৎই সশস্ত্র দলের অনুপ্রবেশ।
কাছাড়ে রাত ২টায় ডাকাতির ঘটনা।
অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে লুট নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার।
শ্বাশুড়ি ও পুত্রবধূকে বেঁধে রেখে কয়েক মিনিটের মধ্যেই সমস্তকিছু লুটপাটের ঘটনা।
ঘটনাস্থলে পুলিশ ও ফরেন্সিক টিম, তদন্ত শুরু।
কাছাড় জেলার সোনাই থানার অন্তর্গত নতুন বাজার সংলগ্ন সালেপুর গ্রামে গভীর রাতে সংঘটিত হলো এক দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা। রাত প্রায় ২টা নাগাদ ৫ জনের একটি সশস্ত্র দল প্রয়াত দেবজিত নাথের বাড়িতে হানা দেয়।
স্থানীয়দের দাবি, গভীর রাতের নিস্তব্ধতার মধ্যেই হঠাৎ এই ঘটনায় চমকে ওঠে গোটা এলাকা। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটে যায় পুরো ঘটনাটি—লুটপাটের পাশাপাশি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্কের পরিবেশ।
অভিযোগ অনুযায়ী, ডাকাতরা প্রথমে বাড়ির লোহার গ্রিল ভেঙে এবং পরে মূল দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর বন্দুক ও ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বাড়ির সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে নেয় তারা। পরিবারের সদস্যরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
ঘটনার সময় বাড়িতে থাকা শ্বাশুড়ি অঞ্জলি নাথ ও পুত্রবধূ ময়ূরী নাথকে বেঁধে ফেলা হয় বলে অভিযোগ। তাদের পরনের স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং ভয় দেখিয়ে চুপ থাকতে বাধ্য করা হয়। এরপরে দুষ্কৃতীরা ঘরের বিভিন্ন অংশ তল্লাশি চালায় এবং নগদ অর্থসহ অন্যান্য মূল্যবান গহনা লুট করে নেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোটা ঘটনাটি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করে দুষ্কৃতীরা দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার সময় আশপাশের মানুষ কিছু টের পেলেও, ভয়ের কারণে কেউ এগিয়ে আসতে পারেননি বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে সকালে সোনাই থানা-র পুলিশ ফরেন্সিক টিমকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঘটনাস্থল ঘিরে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এই ঘটনার পর গোটা এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এলাকার মানুষজনের দাবি, এমন ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে না ঘটে, তার জন্য রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হোক।
বর্তমানে এই দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনায় তদন্ত এগোচ্ছে, তবে প্রশ্ন একটাই—কবে ধরা পড়বে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতীরা এবং কবে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবেন এলাকার সাধারণ মানুষ?

















Leave a Reply