ভোটের মুখে বড় পদক্ষেপ। I-PAC কর্তা Abhishek Banerjee র গ্রেফতারির ও ১০ দিনের ইডি হেফাজতকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
- I-PAC কর্তার ১০ দিনের ইডি হেফাজত ৷
- ‘গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত’, মন্তব্যে সরব অভিষেক ৷
- ভোটের মুখে ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূলের সহযোগী সংস্থা আইপ্যাক কর্তা ভিনেশ চান্দেল ৷
- আজ তাঁকে ১০ দিনের হেফাজতে নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট ৷
- আইপ্যাকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা প্রতীকের স্ত্রী এবং ভাইকে তলব ইডি-র !
- বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় বাড়ছে রাজনৈতিক চাপানউতোর ৷
সোমবার রাতে গ্রেফতারির পরদিনই ১০ দিনের ইডি হেফাজত আইপ্যাক কর্তার৷ আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সোমবার রাতে ইডির হাতে গ্রেফতার হন তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাক (I-PAC)-এর অন্যতম ডিরেক্টর ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভিনেশ চান্দেল৷ এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করে সোশাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “ভিনেশ চান্দেলের গ্রেফতারির ঘটনা শুধু উদ্বেগজনকই নয়, চাপ তৈরির ইঙ্গিত দেয় বলে মনে হচ্ছে।” পাশাপাশি তিনি লিখেছেন, “ভোটের ঠিক মুখে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে যুক্ত এক শীর্ষ কর্তাকে এভাবে গ্রেফতার করার পদক্ষেপ দেশের সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য এক গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।”
অন্যদিকে, মঙ্গলবার সকালে তদন্তকারী সংস্থা ইডি জানিয়েছেন, প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA) অনুসারে দিল্লিতে চান্দেলকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।, সোমবার রাতে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর পিএমএলএ (PMLA) আইনে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মূলত কয়লা পাচারের টাকা হাওলার মাধ্যমে আই-প্যাকের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে— এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত এগোচ্ছে। এরপর দিল্লির একটি বিশেষ আদালত এনএলআইইউ (ন্যাশনাল ল ইনস্টিটিউট ইউনিভার্সিটি সংক্ষেপে NLIU) ভোপালের আইন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ভিনেশকে ১০ দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে৷
এর আগে গত 8 জানুয়ারি আই-প্যাকের কলকাতা অফিসে হানা দিয়েছিল ইডি, যা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ায় । চলতি বছরের গোড়ার দিকে তখন ইডি আই-প্যাকের দফতর এবং সংস্থার আর এক প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক প্রতীক জৈনের কলকাতার বাসভবনে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। তখন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন । অভিযোগ, ইডির তল্লাশি চলাকালীনই প্রতীকের বাড়িতে ঢুকে নথিপত্র, ফাইল এবং ল্যাপটপ বার করে আনেন তিনি— এমন দাবিও সামনে আসে । পরে সল্টলেকে সংস্থার দফতরে গিয়েও একই কাজ করেন— এমন অভিযোগও ওঠে ।
এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি ৷ মঙ্গলবার Supreme Court of India-এ ইডির আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সোমবার অনির্দিষ্টকালের জন্য তা পিছিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করে শীর্ষ আদালত।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক আরও লেখেন, ‘যারা দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি, তারা অন্য দলে যোগ দেওয়ার মুহূর্তেই যেন সুরক্ষা পেয়ে যান— এমন অভিযোগ তোলেন তিনি ৷ মানুষ এখন আর এই বিষয়টির প্রতি অন্ধ হয়ে নেই। একদিকে নির্বাচন কমিশন; অন্যদিকে ইডি (ED), এনআইএ (NIA) এবং সিবিআই (CBI)-এর মতো সংস্থাগুলো, যারা ঠিক সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়ে ময়দানে নেমে পড়ে— এমন মন্তব্যও করেন। এটি সুষ্ঠু পরিবেশ নয়, বরং চাপের এক আবহ তৈরি করছে বলে দাবি।”
এই ইস্যুতে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah-কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন Abhishek Banerjee। এক্স হ্যান্ডেলের ওই পোস্টেই তিনি লেখেন, “অমিত শাহ এবং বিজেপির ক্ষমতার কাঠামোকে বলছি, আগামী 4 ও 5 মে আপনারা বাংলায় উপস্থিত থাকবেন। জ্ঞানেশ কুমার এবং আপনারা যতগুলো সংস্থাকে কাজে লাগিয়েছেন, তাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়েই আসবেন। বাংলাকে ভয় দেখিয়ে কাবু করা যাবে না; বাংলার কণ্ঠ রোধ করা যাবে না এবং বাংলা কারও কাছে মাথা নত করবে না।” বাংলা যে চাপের কাছে নতিস্বীকার না করে প্রতিরোধের মাধ্যমে জবাব দেয়, সে কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, 2021 সাল থেকে I-PAC, তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা হিসেবে সহায়তা প্রদান করে আসছে । এই গ্রেফতারির পর সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি ।













Leave a Reply