শ্রীভূমি-হাইলাকান্দিতে কংগ্রেস-বিজেপির দাপট, AIUDF-এর ভরাডুবি ও ৩ সিটিং বিধায়কের লজ্জার হার: ২০২৬ অসম বিধানসভা নির্বাচন বিশ্লেষণ

Assam Election

ভোট মিটেছে, এখন শুরু হবে পর্যালোচনা! ২০২৬-শে বিধানসভার ভোটে কোন দল হারলো ? কে জিতলো ?  হারলেও সম্মানজনক অবস্থানে ছিল কারা ?  জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে কোন দলের ? -ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চলছে চুলছেঁড়া বিশ্লেষণ।

এবারের ভোটে একাংশ আসনে ভোট কাটুয়ার তকমাও জুটাতে পারেনি কিছু দল। এই প্রতিবেদনে জেনে নিন শ্রীভূমি ও হাইলাকান্দি জেলার বিধানসভা নির্বাচনের কিছু তথ্য…

শ্রীভূমি জেলায় উত্তর করিমগঞ্জ আসনে মূল লড়াই ছিল ক্ষমতাশীন বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে। আর হাইলাকান্দি জেলার আলগাপুর-কাটলিছড়া আসনটি এবার ছিল আলোচনার শীর্ষে, তিনজন সিটিং বিধায়ক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন একই আসনে। এক লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন সিটিং এই তিন বিধায়কই। কংগ্রেস প্রার্থী একাই প্রায় ৬৮ শতাংশ ভোট জিতেছেন। হাইলাকান্দি জেলার আলগাপুর-কাটলিছড়া আসনে লজ্জার নজীর গড়লেন আজমলের দল থেকে দুইবার করে নির্বাচিত দুজন ও একবার নির্বাচিত একজন সহ মোট তিন বিধায়ক, কোনো মতে দুই বিধায়ক জামানত বাঁচালেও এক বিধায়কের জামানত পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

 

শ্রীভূমির চারটি ও হাইলাকান্দি জেলার দুটি আসনের বিস্তারিত ফলাফল দেখে নেবো।

Assam Election Result

উত্তর করিমগঞ্জ বিধানসভা আসন :

জেলা সদর সন্নিবিষ্ট এই আসনে মূল লড়াই ছিল ক্ষমতাশীন বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে। ডিলিমিটেশনের পরেও উত্তর করিমগঞ্জ আসনে দখল অটুট রাখতে সক্ষম হয়েছে কংগ্রেস। বিজেপির প্রার্থী ছিলেন জেলা বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্য – ভোট পেয়েছেন ৯৬,৩৫৩, সমষ্টির মোট ভোটের ৪২.৬৬ শতাংশ।

কংগ্রেস প্রার্থী প্রাক্তন বিধায়ক প্রয়াত জামালুদ্দিন আহমদের পুত্র জাকারিয়া আহমদ পান্না ১ লাখ ২২ হাজার ৩৫৬ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিজেপির সুব্রত ভট্টাচার্যকে ২৬,০০৩ ভোটে পরাজিত করে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। মোট ভোটের ৫৪.১৭ শতাংশ নিজের অনুকুলে রেখেছেন পান্না। উত্তর করিমগঞ্জ আসনে আজমলের দলের অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইউডিএফের প্রার্থী চৌধুরী হবিবুর রসুল উসামা মবরুর পেয়েছেন মাত্র ২,০৩৮ ভোট। ইউডিএফ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে, তিনি সমষ্টির মোট ভোটের ০.৯ শতাংশ পেয়েছেন।

দক্ষিণ করিমগঞ্জ বিধানসভা আসন-

আলোচিত দক্ষিণ করিমগঞ্জ আসনেও দখলধারী বহাল রাখতে সক্ষম হয়েছে কংগ্রেস। দলীয় প্রার্থী আমিনুর রশিদ চৌধুরী ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৫৭ ভোট পেয়ে রীতিমত নজীর সৃষ্টি করে ক্লোজডআপ লড়াই ছাড়াই বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন, মোট ভোটের ৫৭.৭৮ শতাংশ ভোট কংগ্রেস প্রার্থীর অনুকুলে গেছে। বিজেপি-এজিপি মিত্রজোটের প্রার্থী ইকবাল হোসেন পেয়েছেন ৫০ হাজার ৬২৫ ভোট পেয়েছেন, মোট ভোটের ২১.৩১ শতাংশ দখলে নিয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী আজিজ আহমদ খান রানু পেয়েছেন ৪০,০১৬ ভোট। মোট ভোটের ১৬.৮৫ শতাংশ দখলে রাখেন। AIUDF প্রার্থী আইনজীবি হাজী সিহাব উদ্দিন পেয়েছেন ২,৫৪৩ ভোট, তিনি মোট ভোটের মাত্র ১.০৭ শতাংশ পেয়েছেন। দক্ষিণ করিমগঞ্জেও ইউডিএফ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ইউডিএফের এক সময়ের দূর্গ দক্ষিণ করিমগঞ্জে ইউডিএফের এমন দশা কার্যত স্পষ্ট হয়েছে সংখ্যালঘু ভোট আজমলকে প্রত্যাখান করে কংগ্রেস ও মিত্রজোটে মিশে গেছে। প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক প্রনব কুমার নাথ নির্দল প্রার্থী হয়ে দক্ষিণ করিমগঞ্জ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে লজ্জার নজীর গড়েছেন। দল যখন ক্ষমতায় ছিল না সে সময় ওই আসনে জিতেছিলেন কিন্তু আজকের দিনে এই প্রাক্তন বিধায়ক পেয়েছেন মাত্র ৪৫৬ ভোট। জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে এই প্রাক্তন বিধায়কেরও।

পাথারকান্দি বিধানসভা আসন :

বিজেপি সরকারের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল পাথারকান্দিতে এবার জয়ের হেটট্টিক করেছেন। তৃতীয়বারের মত রীতিমত চমক দেখিয়ে ৯৮,১০১ ভোট পেয়েছেন, মোট ভোটের ৬৪.৩৫ শতাংশ তিনি দখলে রেখেছেন। এই আসনে কংগ্রেস প্রার্থী করেছিল পাথারকান্দির বিষ্ণুপ্রিয়া মনিপুরী থেকে ভূমিপুত্র কার্তিক সেনা সিনহাকে। তিনি সর্বশক্তি প্রয়োগ করে ৫১,৩৩৭ ভোট দখল করতে সক্ষম হয়েছেন। ৪৬,৭৬৪ ভোটে কৃষ্ণেন্দু পালের কাছে হারলেও কংগ্রেস প্রার্থী ৩৩.৬৭ শতাংশ ভোট নিজের দখলে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন।

রামকৃষ্ণনগর বিধানসভা আসন –

এবারও বিজেপির প্রার্থী সিটিং বিধায়ক বিজয় মালাকার সেখানে অপ্রতিরুদ্ধ থাকলেন, ১ লাখ ৩৪  হাজার ১৩ ভোট লাভ করে জয়ের হেটট্টিক করেছেন তিনিও। মোট ভোটের ৭০.০৭ শতাংশ অনুকুলে রেখেছেন। কংগ্রেস প্রার্থী সুরুচি রায় ৫০,২৪৮ পেলেও ৮৩,৭৬৫ ভোটে পরাজিত হয়েছেন, মোট ভোটের ২৬.৫১ শতাংশ ভোট অনুকুলে রেখেছেন। রামকৃষ্ণনগর আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে AIUDF ও SUCI দলের প্রার্থীদের। ইউডিএফের প্রার্থী ডাঃ অনুপ কুমার দাস তালুকদার পেয়েছেন মাত্র ১৩০২ ভোট, অর্থাৎ মোট ভোটের ০.৬৯ শতাংশ। তিনি এক লাখের বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন। ইউডিএফ থেকেও আরও লজ্জাজনক পরিণতি দেখা গেল এসইউসিআই প্রার্থী সঞ্চিতা শুক্লার।  তিনি পেয়েছেন মাত্র ৫৮০ ভোট, মোট ভোটের ০.৩১ শতাংশ।

 

হাইলাকান্দি জেলার দুটি আসন আলগাপুর-কাটলিছড়া ও হাইলাকান্দি আসনের ফলাফলের বিশদ তথ্য দেখে নেবো।

হাইলাকান্দি বিধানসভা আসন–

বিজেপির প্রার্থী উঠতি রাজনীতিক মিলন দাস ১ লাখ ১৯ হাজার ৫৯১ ভোট পেয়ে রীতিমত নজীর গড়ে বিজয়ী হয়েছেন। মোট ভোটের ৬৩.৫৭ শতাংশ নিজের অনুকুলে রেখেছেন । কংগ্রেস প্রার্থী প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম রায় পুত্র রাহুল রায় পেয়ে ৬৩ হাজার ৭৭৪ ভোট , মোট ভোটের ৩৩.০৯ শতাংশ দখলে রেখেছেন । বলতে গেলে শোচনীয় পরাজয় ঘটেছে কংগ্রেস প্রার্থী , বিজেপির কাছে হেরেছেন ৪৪ হাজার ১৮৩ ভোটে ।

আলগাপুর-কাটলিছড়া বিধানসভা আসন :

কংগ্রেস প্রার্থী পেয়েছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৬১ ভোট, বরাক উপত্যকার মোট ১৩টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বড় লিড প্রায় লক্ষাধিক ভোটে জিতে সংসদীয় রাজনীতিতে অভিষেক ঘটেছে অসম প্রদেশ যুব কংগ্রেসের সভাপতি জুবায়ের এনাম মজুমদারের। এজিপি প্রার্থী জাকির হোসেন লস্কর পেয়েছেন ৪০,২১৩ ভোট, নির্দল প্রার্থী বিধায়ক নিজামুদ্দিন চৌধুরী পেয়েছেন মাত্র ৩,৩৯১ ভোট, আরেক বিধায়ক সুজামুদ্দিন লস্কর নির্দল প্রার্থী হয়ে পেয়েছেন ২৯,২৩০ ভোট। সব মিলিয়ে সংসদীয় রাজনীতিতে নবাগত জুবাইর এনামের বিরুদ্ধে তিন সিটিং বিধায়ক হেরেছেন এক লাখের বেশি ভোটে। এর মধ্যে জাকির ও সুজাম কোনো মতে জামানত বাঁচালেও সিটিং বিধায়ক নিজামুদ্দিন চৌধুরীর জামানত পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত হওয়ায় লজ্জার নজীর গড়েছেন।

             প্রসঙ্গতঃ হাইলাকান্দি জেলায় বদরুদ্দিন আজমলের দল AIUDF থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন সুজাম, নিজাম ও জাকির। দল বিরোধীতার অভিযোগে জাকির ও নিজামকে ইউডিএফ বহিস্কার করেছিল। ডিলিমিটেশনে সমষ্টি হারিয়ে তিন সিটিং বিধায়ক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছিলেন একটি আসনে। শেষ পর্যন্ত সংসদীয় রাজনীতিতে নবাগত ছেলের বয়সি কংগ্রেসের যুবা প্রার্থী জুবায়ের এনামের বিরুদ্ধে পরাজয়ে লজ্জার নজীর গড়েছেন তিন বিধায়ক।

  • কাছাড় জেলার ৭টি বিধানসভা আসনে জিতলো কারা ?
  • কত ভোটে কত ব্যবধানে জয়-পরাজয় ?
  •  যারা হেরেছেন তাদের অবস্থান কোথায় ছিল ?
  • কোন দলের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ?
  • কাছাড়ে নোটা থেকেও কম ভোট পেয়েছেন অনেক দল সহ বহু প্রার্থী। এক ঝলকে ৭ টি বিধানসভা আসনের বিশদ তথ্যে নজর রাখবো সঙ্গে থাকুন।

শিলচর  বিধানসভা আসন :

শিলচর আসনে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী ডাঃ রাজদীপ রায়। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ৭৫৮ ভোট, মোট ভোটের ৬৪.০৯ শতাংশ ভোট দখলে রেখেছেন বিজেপির প্রার্থী। প্রতিপক্ষ কংগ্রেসের প্রার্থী অভিজিৎ পাল পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৭৬১ ভোট, মোট ভোটের ৩২.৮৫ শতাংশ নিজের অনুকুলে রাখলেও বিজেপি প্রার্থীর প্রাপ্য ভোটের প্রায় অর্ধেকেই থামতে হয়েছে। এসইউসিআই (কমিনিউস্ট) পার্টির প্রার্থী ভবতোষ চক্রবর্তী পেয়েছেন মাত্র ৭০৭টি ভোট, যা মোট ভোটের ০.৪১ শতাংশ। অথচ শিলচর আসনে নোটায় ভোট পড়েছে ৩,০০২ ভোট, যা মোট ভোটের ১.৭৪ শতাংশ। এতে এসইউসিআই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্তের পাশাপাশি নোটার কাছেও হারের রেকর্ড গড়েছেন। এই আসনে আরও চারজন নির্দল প্রার্থীও জামানত বাজেয়াপ্ত সহ নোটা থেকে খারাপ অবস্থান হয়েছে।

উধারবন্দ বিধানসভা আসন :

উধারবন্দ বিধানসভা আসনে বিজেপি প্রার্থী রাজদীপ গোয়ালা ১ লাখ ২৭ হাজার ৩১টি ভোট পেয়ে বড় মার্জিনে জয়লাভ করেছেন। মোট ভোটের ৬৬.০৮ শতাংশে উপর দখল রেখেছেন। প্রতিপক্ষ কংগ্রেস প্রার্থী অজিত সিং জয়ী প্রার্থীর অর্ধেক থেকে কম ৪৭,৮৬৭ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। মোট ভোটের মাত্র ৩০.৬১ শতাংশ অনুকুলে রাখতে সক্ষম হন তিনি। তৃনমূল কংগ্রেস প্রার্থী তাপস দাস ২,২৯১ ভোট লাভ করলেও তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তিনি নিজের অনুকুলে রেখেছেন মাত্র ১.৪৭ শতাংশ। এই আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে এসইউসি প্রার্থী দিলীপ কুমার রী-র। তিনি পেয়েছেন মাত্র ১,০৪৬ ভোট যা মোট ভোটের ০.৫৭ শতাংশ। এসইউসি প্রার্থী থেকে উধারবন্দ আসনে নোটা বেশি ভোট পেয়েছে। এই আসনে নোটার দখলে গেছে ১,৮৩৭ টি ভোট, যা মোট ভোটের ১.১৭ শতাংশ ।

সোনাই বিধানসভা আসন :

সংখ্যালঘু অধ্যুষিত সোনাই আসনে জিতে সংসদীয় রাজনীতিতে কামব্যাক করেছেন অসম বিধানসভার প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ আমিনুল হক লস্কর। তিনি কংগ্রেসি মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পেয়েছেন ৮৯,৯৫৭ ভোট, যা মোট ভোটের ৫৬.০৫ শতাংশ। তিনি হারিয়েছেন তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি এজিপি প্রার্থী করিমুদ্দিন বড়ভূইঞা সাজুকে। এজিপির প্রার্থী পেয়েছেন ৬২,৭৮৭ ভোট,  মোট ভোটের ৩৯.১২ শতাংশ। সোনাই আসনে ইউডিএফ প্রার্থী মিনার হোসেন মাজারভূইঞা পেয়েছেন মাত্র ১,১৭৮ ভোট, যা মোট ভোটের ০.৭৩ শতাংশ।

গত ২০২১-শের ভোটে ইউডিএফ এই আসনটি জিতেছিল এবার সেই আসনে জামানত বাজেয়াপ্তের পাশাপাশি প্রাপ্ত ভোট নোটার নীচে নেমেছে। এতে কার্যত বরাকে আজমলের দলের লালবাতি জ্বলে উঠেছে। জামানত বাজেয়াপ্তের তালিকায় রয়েছে AIUDF ছাড়াও TMC, SUCI ও বিকাশ ইণ্ডিয়া পার্টিরও। টিএমসি প্রার্থী শাহ জাহান লস্কর পেয়েছেন ২,২৮০ ভোট, যা মোট ভোটের ১.৪২ শতাংশ। জামানত বাজেয়াপ্ত হলেও তিনি অবশ্য নোটা থেকে একটু বেশি ভোট পেয়েছেন। বিকাশ ইণ্ডিয়া পার্টির প্রার্থী আব্দুল মুতলিব লস্কর পেয়েছেন মাত্র ১৪৮ ভোট, মোট ভোটের ০.০৯ শতাংশ। তিনি নোটা কিংবা কোনো নির্দল প্রার্থীকেও হারাতে পারেননি, বাজেয়াপ্ত হয়েছে জামানতও। এসইউসিআই প্রার্থী অঞ্জন কুমার চন্দ পেয়েছেন ২৩৯ ভোট, অর্থাৎ ০.১৫ শতাংশ, নোটার কাছেও হেরেছেন। তিনি সহ আরও ৬ নির্দল প্রার্থী নোটা থেকেও কম ভোট পাওয়ায় জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এই আসনে প্রাপ্য ভোটের লড়াই তৃনমূল কংগ্রেসের কাছেও হেরেছে আজমলের দল। বরাকের আলোচিত এই আসনে নোটায় ভোট পড়েছে ১,৫৩৪ টি। নোটার কাছে হেরেছেন দুজন দলীয় সহ মোট ৯ জন প্রার্থী।

ধলাই বিধানসভা আসন :

ধলাই বিধানসভা আসনে বিজেপি প্রার্থী অমিয়কান্তি দাস ১ লাখ ৬ হাজার ৩৪ ভোট পেয়ে বড় মার্জিনে কংগ্রেস প্রার্থীকে হারিয়ে জয়লাভ করেছেন। মোট ভোটের ৬২.৭৩ শতাংশ ভোট নিজের অনুকুলে রেখেছেন। কংগ্রেস প্রার্থী ধ্রুবজ্যোতি পুরকায়স্থ পেয়েছেন ৫৬ হাজার ১৭২ ভোট, তিনি দখল করেছেন মোট ভোটের ৩৫.০২ শতাংশ। এসইউসিআই প্রার্থী গৌর চন্দ্র দাস পেয়েছেন মাত্র ১,০২০টি ভোট, ০.৬৪ শতাংশ। এই আসনে নোটায় ভোট পড়েছে ১,৯৭২ ভোট, এসইউসি প্রার্থী ও একজন নির্দল প্রার্থী নোটা থেকেও কম ভোট পাওয়ায় বাজেয়াপ্ত হয়েছে জামানত।

বড়খলা বিধানসভা আসন :

বড়খলা আসনে বিজেপি প্রার্থী প্রাক্তন বিধায়ক কিশোর নাথ ১ লাখ ২ হাজার ৭৭৫ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন, মোট ভোটের ৫৮.০২ শতাংশ ভোট নিজের অনুকুলে রেখেছেন। তিনি উল্লেখযোগ্য মার্জিনে হারিয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী ডাঃ অমিত কুমার কালোয়ারকে। কংগ্রেস প্রার্থী অমিত কুমার কালোয়ার পেয়েছেন ৬৬ হাজার ১৬২ ভোট, যা মোট ভোটের ৩৭.৩৫ শতাংশ। এই আসনে এসইউসিআই প্রার্থী শম্পা দে সহ আরও তিন নির্দল প্রার্থী নোটা থেকেও কম ভোট পেয়েছেন। ওঁদের সকলের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নোটায় পড়েছে ১,৪৪৭ ভোট।

লক্ষীপুর বিধানসভা আসন :

লক্ষীপুর আসনে অসম সরকারের মন্ত্রী তথা বিজেপি প্রার্থী কৌশিক রাই ১ লাখ ২৫ হাজার ৩০২ ভোটে প্রায় লক্ষাধিক ভোটের নজরকাঁড়া লিড ভোটে বাজিমাৎ করেছেন,  মোট ভোটের ৮১.৪৯ শতাংশ নিজের অনুকুলেই রেখেছেন। প্রতিপক্ষ কংগ্রেস প্রার্থী শান্তি কুমার সিনহা পেয়েছেন ২৫ হাজার ৯০১ ভোট, যা মোট ভোটের ১৬.৮৪ শতাংশ। কংগ্রেস প্রার্থীর কোনোমতে জামানত বাঁচলেও টক্করের ধারেকাছে পৌছাতে পারেন নি। লক্ষীপুর বরাকের একমাত্র আসন যেখানে কংগ্রেস-বিজেপি ব্যাতিত তৃতীয় কোনো দল বা কোনো নির্দল প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি।

কাটিগড়া বিধানসভা আসন :

কাটিগড়ায় বিজেপি প্রার্থী কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ ভোটের প্রচারের বহিরাগত ইস্যুতে বারংবার প্রত্যাখানের মুখে পড়লেও এক সময় বরাকের রাজা খ্যাঁত প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম রায় যা পারেন নি সেটাই করে দেখালেন শিষ্য কমলাক্ষ। ১ লাখ ১০ হাজার ৭৫৮ ভোট লাভ করে জয়লাভ করেছেন কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ। মোট ভোটের ৫৮.২১ শতাংশে নিজের অনুকুলে রেখেছেন। কংগ্রেস প্রার্থী অমরচাঁন্দ জৈন ৭৩ হাজার ৭৮ ভোটে থেমে গেলেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে আসতেই পারেননি। তিনি মোট ভোটের ৩৮.৪১ শতাংশেই দখল জমিয়ে ছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত বহিরাগত প্রার্থীর কাছে ভূমিপুত্র প্রাক্তন বিধায়ককে হারতে হয়েছে। কাটিগড়া আসনে আরেক ভূমিপুত্র প্রাক্তন এসিএস অফিসার এফআর লস্কর তৃনমূল কংগ্রেসের প্রার্থীত্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাত্র ১,৯৮৯ ভোট পেয়ে জামানত পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এসইউসিআই প্রার্থী হিল্লোল ভট্টাচার্য নোটার কাছেও হেরেছেন, মাত্র ১৬১ ভোট পেয়েছেন অথচ নোটা পেয়েছে ১,১৯৪ ভোট। আরও ১০জন নির্দল প্রার্থী নোটা থেকেও কম ভোট পেয়ে জামানত পর্যন্ত হারিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *