- অক্ষয় তৃতীয়ার ভোরে কালবৈশাখীর তাণ্ডব পাথারকান্দিতে, লণ্ডভণ্ড জনজীবন।
- ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ শতাধিক পরিবার, ভূক্তভোগীদের মধ্যে হাহাকার পরিস্থিতি।
- প্রকৃতির রোষানলে পড়ে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত পাথারকান্দি রাজস্ব চক্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চল।
- খুটি ভেঙ্গে, লাইন ছিঁড়ে বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বহু গ্রামে।
- বসতির ছাউনি উড়িয়ে নেওয়ায় খোলা আকাশের নীচে ঠাঁই হয়েছে বহু পরিবারের।
- বহু সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে বেলাগাম ঘুর্ণিঝড়।
- গাছ ভেঙ্গে পড়ে বহু এলাকায় ব্যাহত যোগাযোগ ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্থ অনেক ধর্মীয় উপাসনালয়ও।
অক্ষয় তৃতীয়ার পুণ্যলগ্ন— যে দিনে সাধারণ মানুষ আনন্দ, পূজা ও শুভ সূচনার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করেন, সেই দিনই প্রকৃতির আকস্মিক তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ল পাথারকান্দি শহর সহ বিস্তীর্ণ এলাকা। ভোররাত প্রায় ৪টা নাগাদ হঠাৎ করে ধেয়ে আসে তীব্র কালবৈশাখি ঘূর্ণিঝড়, আর মুহূর্তের মধ্যেই বদলে যায় পুরো চিত্র। ঘুমন্ত মানুষের অজান্তেই শুরু হয় প্রকৃতির ভয়ংকর রূপ, বিকট শব্দ আর প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়ায় কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় পাথারকান্দি রাজস্ব চক্র এলাকার বহু গ্রাম ও জনপদ।
এই ভয়াবহ ঝড়ে পাথারকান্দি শহর, ওএনজিসি এলাকা, পাথারিগাও, ভুবরিঘাট, কলকলিঘাট সহ একাধিক অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। অসংখ্য কাঁচা ও পাকা বাড়ির ছাউনি উড়ে গিয়ে রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে, অনেক জায়গায় বিশালাকার গাছ ভেঙে সরাসরি বসতঘরের ওপর পড়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে। শুধু কাঁচা ঘর নয়, পাকা দেওয়াল পর্যন্ত ভেঙে পড়ার ঘটনাও সামনে এসেছে, যা এই ঝড়ের তীব্রতা স্পষ্ট করে।
সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিও এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রেহাই পায়নি। পাথারকান্দি সার্কেল অফিস কার্যালয়ের প্রাচীরের ওপর বিশাল গাছ উপড়ে পড়ে ক্ষতির সৃষ্টি করেছে। একইভাবে পাথারকান্দি থানার সংলগ্ন বাজার এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে এবং তার ছিঁড়ে যাওয়ায় পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বর্তমানে বহু গ্রাম অন্ধকারে ডুবে রয়েছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ওপরও ঝড়ের প্রভাব ছিল অত্যন্ত মারাত্মক। একাধিক স্কুলের ছাউনি উড়ে গেছে। বিশেষ করে পাথারিগাওয়ের ৯৫৩ নম্বর এলপি স্কুলের ওপর একটি বিশাল বটগাছ ভেঙে পড়ায় স্কুলটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে শিক্ষাব্যবস্থার ওপরও এই দুর্যোগের গভীর প্রভাব পড়েছে।
ধর্মীয় উপাসনালয়গুলিও এই ঝড়ের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। পূর্ব কলকলিঘাটের দুর্গামন্দিরের টিনের চাল সম্পূর্ণভাবে উড়ে গেছে। পাশাপাশি বেশ কিছু মসজিদ ও স্থানীয় মন্দিরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এতে এলাকার মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে বড় প্রভাব পড়েছে।
পূর্বাঞ্চল প্রতিদিনের হাতে আসা প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পাথারকান্দি শহর সহ বিলবাড়ী, আদমটিলা, নালুগাও, মুন্ডমালা, রাজারগাও, বাগাডহর, সোনাখিরা, উনাম, নয়াডহর ও চেংজুর সহ বিভিন্ন গ্রামে মিলিয়ে প্রায় ৫০০-রও বেশি পরিবার আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু পরিবার ঘরের ছাউনি হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন, যার ফলে এলাকায় এক করুণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ঝড়ের সময় অধিকাংশ মানুষ গভীর ঘুমে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে ঝড় শুরু হওয়ায় অনেকেই কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিজেদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেখেন। বহু জায়গায় বড় বড় গাছ রাস্তায় পড়ে থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। জরুরি পরিষেবাও অনেক ক্ষেত্রে পৌঁছাতে পারছে না।
বর্তমানে পুরো পাথারকান্দি এলাকা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। রাস্তাঘাটে ভেঙে পড়া গাছ, ঘরের টিন ও বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে থাকায় জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যেই স্থানীয় প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ শুরু করেছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
অক্ষয় তৃতীয়ার আনন্দ যেখানে থাকার কথা ছিল, সেখানে এখন পাথারকান্দি জুড়ে শুধুই ক্ষতির হিসাব আর মানুষের দীর্ঘশ্বাস— প্রকৃতির এই আকস্মিক তাণ্ডবে উৎসবের দিনটি পরিণত হয়েছে এক গভীর দুঃসময়ে।















Leave a Reply