ভোট মিটতেই LPG Cylinder-এর দাম বৃদ্ধি

LPG Gas Cylinder

বাণিজ্যিক LPG Cylinder-এর দামে বড় বৃদ্ধি •  একলাফে +৯৯৩ টাকা •  ১৯ কেজি সিলিন্ডার ৩,০৭১.৫০ টাকা • ভোটের পরেই দাম বৃদ্ধি •  রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া •  ব্যবসায়িক খাতে বাড়তে পারে চাপ •

  • ভোট মিটতেই মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপলো জনতার ঘাড়ে।
  • বাণিজ্যিক LPG সিলিন্ডারের দাম একলাফে ৯৯৩ টাকা বৃদ্ধি।
  • বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বাড়তেই মোদীকে ‘প্রাইস হাইক ম্যান’ বলে খোঁচা রাহুলের।
  • আজ থেকে ১৯ কেজি বাণিজ্যিক LPG সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি ৯৯৩ টাকা।
  • ১৯ কেজি সিলিন্ডারের খরচ দাঁড়িয়েছে ৩,০৭১.৫০ টাকা, যা পূর্বে ছিল ২,০৭৮.৫০ টাকা।
  • পাঁচ রাজ্যের ভোট মিটতেই বেলাগাম মূল্যবৃদ্ধি করা হল জ্বালানি গ্যাসে।
LPG Cylender

একশো-দুশো টাকা নয় এক লাফে ৯৯৩ টাকা মূল্য বৃদ্ধি হল বাণিজ্যিক সিলেণ্ডারের। মানে প্রায় হাজার টাকার কাছাকাছি। শেষ কবে একধাক্কায় এত টাকা বাড়ানো হয়েছে মনে করতে পারছেন না অনেকেই।

এই নতুন মূল্যবৃদ্ধির পর দিল্লিতে একটি ১৯ কেজি সিলিন্ডারের খরচ দাঁড়িয়েছে ৩,০৭১.৫০ টাকা, যা পূর্বের ২,০৭৮.৫০ টাকা থেকে অনেকটাই বেশি। তবে, জাতীয় সংবাদ সংস্থার তথ্য মতে গার্হস্থ্য রান্নার গ্যাসের দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

 

বাণিজ্যিক এলপিজি-র দাম ফেব্রুয়ারি থেকে গত তিন মাসে ধাপে ধাপে ১,৩৮০ টাকা বেড়েছে। অর্থাৎ তিন মাসে ৮১ শতাংশ বৃদ্ধি। যা এককথায় অবিশ্বাস্য বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।

রাহুলের কথায়, ‘হোটেল, ধাবা, মিষ্টির দোকান, বেকারি-সর্বত্র চাপ পড়তে চলেছে। আপনার পাতেও এর প্রভাব পড়তে চলেছে।’ 

রাহুল বলেন, ‘যখন দাম কম ছিল, তখন কেন্দ্রীয় সরকার লাভ পকেটে তুলেছে। আর দাম বাড়তেই অতিরিক্ত বোঝা জনগণের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছে।’

         প্রসঙ্গতঃ ২৮ ফেব্রুয়ারি ইউএস-ইজরায়েল হামলা ও ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের পূর্বে, ভারত পশ্চিম এশিয়ার দেশ, যেমন সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে তার অর্ধেকেরও বেশি অপরিশোধিত তেল, প্রায় ৩০ শতাংশ গ্যাস এবং ৮৫-৯০ শতাংশ এলপিজি আমদানি করত। এই সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালীতে, যা উপসাগরীয় জ্বালানির প্রধান পরিবহন পথ, অবরোধের সৃষ্টি হয়েছে। ভারত রাশিয়া সহ অন্যান্য উৎস থেকে তেল সংগ্রহ করে কিছু অপরিশোধিত তেল সরবরাহ ঘাটতি মোকাবিলা করলেও, শিল্প গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ এবং হোটেল-রেস্তোরাঁর মতো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে এলপিজির সহজলভ্যতা হ্রাস পেয়েছে। সরবরাহ সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার নতুন এলপিজি সংযোগ বিতরণ বন্ধ করে দিয়েছে বলেও জানাগেছে।

কলকাতায় সিলিন্ডার প্রতি দাম পড়বে ৩৩৫৫ টাকা। বাণিজ্যিক এলপিজির দাম এই নিয়ে তিন দফায় মোট ১,৩০৩ টাকা বাড়ল। এর আগে পয়লা এপ্রিল সিলিন্ডার প্রতি ১৯৫.৫০ এবং পয়লা মার্চ ১১৪.৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছিল। অন্যদিকে, গার্হস্থ্য গ্রাহকদের জন্য ১৪.২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে; এটি শেষবার ৭ মার্চ ৬০ টাকা বেড়েছিল এবং বর্তমানে দিল্লিতে ৯১৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত্ব তেল সংস্থাগুলি, যেমন ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম, প্রতি মাসের প্রথম দিনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও বিনিময় হারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এটিএফ এবং এলপিজি উভয়েরই মূল্য নির্ধারণ করে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুতর বিঘ্ন ঘটিয়েছে। ভারত তার মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকে।

বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পাড়ার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাস্তার ধারের হোটেল, রেস্তোরাঁর খাবারের দামও বাড়বে বলে মনে করছেন অনেকে। পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন মিটতেই এই দামবৃদ্ধি নিয়ে মোদী সরকারকে একহাত নিয়েছেন রাহুল গান্ধী সহ ইন্ডিয়া জোটের একাংশ নেতারাও।

এ প্রসঙ্গে রাহুল গান্ধী খোঁচা দিয়ে রাহুল বলেন, ‘নির্বাচনের পরে মূল্যস্ফীতির আঁচ আসতে চলেছে বলে আগেই সতর্ক করেছিলাম। আর আজ সিলিন্ডারের দাম ৯৯৩ টাকা বাড়িয়ে দিল। একদিনে সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি।’ রাহুলের কথায়, ‘আগে গ্যাসের দাম বাড়ল, এবার পেট্রল, ডিজেলের পালা।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *